📖 I WILL KEEP YOU SAFE
Chapter–৯
তুমি আমাকে জানালে না কেন? আর অতিত এর ভয়।
ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে Aurora-র ঠাণ্ডা কণ্ঠ ভেসে এলো—
— "তুমি এখন কোথায়?"
আহমেদ কিছুটা অবাক হয়ে বলল,
— "বাসায়।"
কয়েক সেকেন্ড নীরব থাকার পর Aurora বলল,
— "আমি তোমার সাথে দেখা করতে চাই।"
— "এখন?"
— "হ্যাঁ, এখনই।"
Aurora কাছের একটি ক্যাফের নাম বলে ফোন কেটে দিল।
আহমেদ কিছুক্ষণ ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল।
সে বুঝতে পারছিল না, Aurora হঠাৎ তার সাথে কেন দেখা করতে চাইছে।
তবুও সে রওনা দিল।
ক্যাফেতে পৌঁছে আহমেদ দেখল, Aurora জানালার পাশের একটি টেবিলে বসে আছে।
আজ তার মুখটা অন্যদিনের তুলনায় অনেক বেশি গম্ভীর লাগছিল।
আহমেদ বসতেই Aurora সরাসরি বলল,
— "এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল, আর তুমি আমাকে জানালে না?"
আহমেদ বুঝতে পারল, Aurora তার চাকরি হারানোর কথাই বলছে।
সে শান্ত গলায় বলল,
— "এটা বলার মতো কিছু ছিল না।"
Aurora ভ্রু কুঁচকে বলল,
— "তোমাকে অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এটা বলার মতো কিছু নয়?"
আহমেদ চুপ করে রইল।
কিছুক্ষণ পর Aurora আবার বলল,
— "শুধু একবার বলো। আমি আজই নাহিদের ব্যবস্থা করছি।"
কথাটা শুনে আহমেদ দ্রুত মাথা নাড়ল।
— "না, এমনটা করো না।"
— "কেন?"
— "কারণ, তুমি যদি ওকে চাকরি থেকে বের করে দাও, তাহলে ওকে আবার নতুন কাজ খুঁজতে হবে। ততদিন ও কীভাবে চলবে?"
Aurora অবিশ্বাসের চোখে তার দিকে তাকাল।
— "ও তোমার ক্ষতি করেছে, আর তুমি তার কথা ভাবছ?"
আহমেদ মৃদু হেসে বলল,
— "সবাই দ্বিতীয় একটা সুযোগ পাওয়ার যোগ্য।"
Aurora কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর ধীরে ধীরে বলল,
— "আর তুমি?"
— "আমি কী?"
— "তোমার কী হবে?"
আহমেদ মজার ছলে বলল,
— "আমার তো তুমি আছো।"
কথাটা বলেই সে হেসে ফেলল।
কিন্তু সে খেয়াল করল না, কথাটা Aurora কতটা গুরুত্বের সাথে নিয়েছে।
Aurora সঙ্গে সঙ্গে Mary-র দিকে তাকিয়ে বলল,
— "আজ থেকে আহমেদের সবকিছুর দায়িত্ব তোমার। ওর কী প্রয়োজন, কী লাগবে, সব তুমি দেখবে।"
Mary অবাক হলেও মাথা নেড়ে বলল,
— "জি, বস।"
এবার অবাক হওয়ার পালা আহমেদের।
— "এক মিনিট! আমি তো মজা করছিলাম!"
Aurora সম্পূর্ণ নির্বিকার মুখে বলল,
— "আমি না।"
আহমেদ মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল।
সে মনে মনে ভাবল,
"এই মেয়েটা কি সত্যিই মজা বুঝে না?"
কিন্তু Aurora তখন অন্য কিছু ভাবছিল।
নাহিদকে সে কোনোভাবেই ছেড়ে দেবে না।
এভাবেই আরও কয়েকদিন কেটে গেল।
Aurora-র নির্দেশ অনুযায়ী Mary নিয়মিত আহমেদের খোঁজখবর নিত।
প্রথম প্রথম বিষয়টা আহমেদের কাছে বেশ অস্বস্তিকর লাগলেও ধীরে ধীরে সে অভ্যস্ত হয়ে গেল।
একদিন সন্ধ্যায় আহমেদ আমাতুল্লাহকে তার বাসায় পৌঁছে দিতে গিয়েছিল।
ভাইবোন অনেকক্ষণ একসাথে সময় কাটানোর পর এবার বিদায়ের পালা।
আমাতুল্লাহ গাড়ি থেকে নামতেই আহমেদ হাসিমুখে বলল,
— "ঠিকমতো খেয়ে ঘুমাবি।"
আমাতুল্লাহ মুচকি হেসে বলল,
— "তুমিও কিন্তু সময়মতো খাবে।"
আহমেদ মাথা নেড়ে চলে যাচ্ছিল।
হঠাৎ খেয়াল করল, গাড়ির চাবিটা এখনও তার হাতেই আছে।
সে তাড়াতাড়ি পেছন ফিরে ডাক দিল,
— "আমাতুল্লাহ!"
আমাতুল্লাহ আবার ফিরে এলো।
আহমেদ চাবিটা তার হাতে দিয়ে বলল,
— "দেখ, এটা আমার কাছেই থেকে যাচ্ছিল।"
আমাতুল্লাহ হেসে বলল,
— "ভালোই হয়েছে। না হলে সকালে অফিস যেতে পারতাম না।"
আরিয়ান যখন বাড়ি ফিরছিল, ঠিক তখনই আহমেদ অনুভব করল, কেউ যেন তাকে অনুসরণ করছে।
সে কিছু বুঝে ওঠার আগেই পেছন থেকে কেউ তার ওপর আক্রমণ করল।
আহমেদ কোনোমতে নিজেকে সামলে দ্রুত সেখান থেকে দৌড়ে পালাতে শুরু করল।
কিন্তু বেশি দূর যেতে পারল না।
একটি গাড়ি তার সামনে এসে হঠাৎ থেমে গেল।
গাড়ি থেকে নেমে এলো নাহিদ।
তার হাতে একটি হকি স্টিক।
নাহিদের চোখে তখন ভয়ংকর রাগ।
— "তোমার জন্যই আজ আমার সবকিছু নষ্ট হয়েছে!"
আহমেদ পেছাতে লাগল।
কিন্তু তার দৃষ্টি আটকে গেল নাহিদের হাতে থাকা হকি স্টিকের দিকে।
আর মুহূর্তের মধ্যেই সে যেন অতীতে ফিরে গেল।
তার চোখের সামনে ভেসে উঠল বহু বছর আগের সেই ভয়ংকর রাত।
ছোট্ট আহমেদ আর আমাতুল্লাহ ঘরের এক কোণে ভয়ে কাঁপছে।
তাদের সৎ বাবা হাতে হকি স্টিক নিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে আসছে।
তাদের মা বারবার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
কিন্তু তিনিও মার খাচ্ছেন।
শেষ পর্যন্ত তাদের মা কোনোমতে দুই ভাইবোনকে বাড়ির বাইরে বের করে দেন।
সেদিন প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল।
মাথা থেকে রক্ত ঝরছিল ছোট্ট আহমেদের।
দুই ভাইবোন বৃষ্টির মধ্যে দৌড়াচ্ছিল।
হঠাৎ ছোট্ট আমাতুল্লাহ পড়ে গেল।
আহমেদ দৌড়ে গিয়ে তাকে তুলে বলল,
— "তোর কোথাও লেগেছে?"
আমাতুল্লাহ কাঁদতে কাঁদতে বলল,
— "না। কিন্তু ভাইয়া, তোর মাথা থেকে রক্ত পড়ছে। তোর ব্যথা করছে না?"
ছোট্ট আহমেদ চোখের পানি লুকিয়ে বলেছিল,
— "না। আজ থেকে আমি সবসময় তোকে আগলে রাখব।"
— "তাহলে তোকে কে আগলে রাখবে?"
সেদিন সেই প্রশ্নের উত্তর তার জানা ছিল না।
আর আজ, এত বছর পরও সে জানত না—কেউ কি সত্যিই তাকে আগলে রাখবে?
ঠিক তখনই বর্তমানের পৃথিবীতে ফিরে এলো আহমেদ।
কারণ, নাহিদ তার দিকে হকি স্টিক উঁচিয়ে ছুটে আসছে।
চলবে...