📖 I WILL KEEP YOU
Chapter – ২
পুরোনো বন্ধুর ফিরে আসা
ফটোশুট শেষ করে আহমেদ বাড়ি ফিরে এল।
ফ্রেশ হয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লেও তার মাথায় শুধু একটাই চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিল—
সে কি সিলেক্ট হবে?
এত বড় একটা কোম্পানিতে কাজ করার সুযোগ জীবনে বারবার আসে না।
এই চিন্তা করতে করতেই কখন যে সে ঘুমিয়ে পড়েছিল, সে নিজেও জানত না।
হঠাৎ ফোনের রিংটোনে তার ঘুম ভেঙে গেল।
ঘুম জড়ানো চোখে ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকাতেই তার মুখে হাসি ফুটে উঠল।
আমাতুল্লাহ কলিং...
ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে উত্তেজিত কণ্ঠে আমাতুল্লাহ বলে উঠল—
— "ভাইয়া! কংগ্র্যাচুলেশন! তুই সিলেক্ট হয়ে গেছিস!"
কথাটা শুনে আহমেদ কয়েক সেকেন্ড নিশ্চুপ হয়ে রইল।
যেন সে ঠিক বিশ্বাসই করতে পারছে না।
— "সত্যি বলছিস?"
— "অবশ্যই! আর সবচেয়ে বড় খবর হলো, তোকে আজ থেকেই জয়েন করতে বলেছে।"
আমাতুল্লাহ একটু থেমে আবার বলল,
— "আর তুই আমার সাথেই একই ডিপার্টমেন্টে কাজ করবি!"
আহমেদের মুখে অজান্তেই হাসি ফুটে উঠল।
অবশেষে, এতদিন পর তার জীবনে ভালো কিছু ঘটল।
পরদিন সকালেই আহমেদ নতুন উদ্যম নিয়ে অফিসে পৌঁছে গেল।
সব ধরনের অফিসিয়াল কাগজপত্র ও ফর্মালিটি শেষ করে তাকে স্টুডিওতে নিয়ে যাওয়া হলো।
আজ কোম্পানির নতুন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরের ফটোশুট হবে।
স্টুডিওর একজন কর্মচারী এসে বলল,
— "মিস্টার আহমেদ, সবকিছু দ্রুত প্রস্তুত করুন। আমাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর যে কোনো সময় এসে পৌঁছাবেন।"
আহমেদ মাথা নেড়ে কাজে লেগে গেল।
ক্যামেরা, লাইট, ব্যাকড্রপ—সবকিছু নিখুঁতভাবে সাজিয়ে ফেলল সে।
কিছুক্ষণ পর স্টুডিওর বাইরে হালকা হইচই শুরু হলো।
মনে হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কেউ এসেছে।
আহমেদ শেষবারের মতো ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল ঠিক করে পেছন ফিরে তাকাল।
আর তাকিয়েই সে স্তব্ধ হয়ে গেল।
তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটিকে দেখে তার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।
কয়েক সেকেন্ড পর সে অবিশ্বাসের সুরে বলল—
— "আরিয়ান... তুই?"
সামনের মানুষটিও বিস্মিত হয়ে গেল।
তারপর মুখে বড়সড় হাসি ফুটিয়ে বলল—
— "আহমেদ! তুই?"
পরের মুহূর্তেই আরিয়ান এগিয়ে এসে আহমেদকে জড়িয়ে ধরল।
স্টুডিওতে উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে রইল।
আহমেদ হেসে বলল,
— "কত বছর পর দেখা হলো বল তো?"
আরিয়ান হেসে বলল,
— "প্রায় পাঁচ বছর!"
— "কিন্তু তুই এখানে?"
আরিয়ান মুচকি হেসে বলল,
— "আমি এখন এই কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। আর তুই?"
— "আমি আজই জয়েন করেছি।"
— "ওয়াও! তাহলে তো দারুণ হয়েছে!"
দুজন কিছুক্ষণ পুরোনো স্মৃতি নিয়ে গল্প করতে লাগল।
এরপর ফটোশুট শুরু হলো।
কাজের সময় আহমেদ পুরোপুরি পেশাদার হয়ে গেল।
আরিয়ানও ক্যামেরার সামনে অসাধারণ পারফর্ম করল।
প্রায় তিন ঘণ্টা পর ফটোশুট শেষ হলো।
সবাই আহমেদের কাজের প্রশংসা করতে লাগল।
আরিয়ানও মুগ্ধ হয়ে বলল—
— "তুই আগের থেকেও অনেক ভালো ফটোগ্রাফার হয়ে গেছিস।"
আহমেদ শুধু হেসে মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।
ফটোশুট শেষ হওয়ার পর আরিয়ান ক্লান্ত ভঙ্গিতে সোফায় বসে পড়ল।
আহমেদ তখন ক্যামেরা গুছাতে ব্যস্ত।
হঠাৎ আরিয়ান বলে উঠল,
— "এই, আজ রাতে একটা ডিনার পার্টি আছে। তুই আমার সাথে চল।"
আহমেদ ভ্রু কুঁচকে বলল,
— "আমি গিয়ে কী করব?"
— "আরেহ, আজ কোম্পানির পক্ষ থেকে আমার জন্য পার্টি দিয়েছে। অনেক বড় বড় লোকজন থাকবে। তুই গেলে অন্তত নিজেকে একা মনে হবে না।"
আহমেদ কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
আসলে বহুদিন পর পুরোনো বন্ধুর সাথে দেখা হয়েছে। তাই শেষ পর্যন্ত আরিয়ানের অনুরোধ ফেলতে পারল না।
— "আচ্ছা, যাব।"
আরিয়ান হাসল।
— "এটাই তো আমার বন্ধু!"
রাত আটটার দিকে তারা শহরের সবচেয়ে বিলাসবহুল একটি হোটেলে পৌঁছাল।
হোটেলের বিশাল বলরুমটি ঝলমলে আলোয় সজ্জিত।
চারদিকে নামকরা ব্যবসায়ী, মডেল, অভিনেতা এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের উপস্থিতি।
আহমেদ কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছিল।
এ ধরনের জায়গায় সে আগে কখনো আসেনি।
আরিয়ান তার কাঁধে হাত রেখে বলল—
— "রিল্যাক্স। এত নার্ভাস হওয়ার কিছু নেই।"
আহমেদ হালকা হাসল।
ঠিক তখনই বলরুমের ভেতরের পরিবেশ অদ্ভুতভাবে শান্ত হয়ে গেল।
সবাই যেন হঠাৎ করেই সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল।
কৌতূহলী হয়ে আহমেদ প্রবেশপথের দিকে তাকাল।
প্রবেশপথ দিয়ে ধীর পায়ে ভেতরে প্রবেশ করল একজন নারী।
তার মুখ দেখা যাচ্ছিল না।
লম্বা কালো চুল তার পিঠ জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে।
কালো রঙের অভিজাত পোশাকে তাকে রহস্যময় লাগছিল।
নারীটি সবার পাশ কাটিয়ে সামনে এগিয়ে গেল।
কিছুক্ষণ পর সে সামান্য ঘুরতেই আহমেদ প্রথমবারের মতো তার মুখ দেখতে পেল।
আর সঙ্গে সঙ্গেই তার মনে পড়ে গেল সেই আর্টিকেলের কথা।
"Aurora Black Widow!"
আহমেদ বিস্ময়ে ফিসফিস করে বলল—
— "এ তো সেই মেয়েটা..."
তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরিয়ান মুচকি হেসে বলল—
— "হ্যাঁ। উনিই Aurora Black Widow। Black Widow Enterprises-এর মালিক এবং সিইও।"
আহমেদ আবারও Aurora-র দিকে তাকাল।
কিন্তু কেন জানি না, মেয়েটিকে দেখে তার মনে এক ধরনের অদ্ভুত অনুভূতি হলো।
সে তখনও জানত না, এই রহস্যময়ী নারী খুব শিগগিরই তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হয়ে উঠবে।
চলবে...