📖 I WILL KEEP YOU SAFE
Chapter– ৭
চকলেটের মালিক ও নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী
আহমেদ চকলেটের বাক্সটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।
তার এখনও বিশ্বাস হচ্ছিল না যে Aurora সত্যিই তার জন্য চকলেট পাঠিয়েছে।
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরিয়ান একটি চকলেট তুলে নিয়ে বলল,
— "দেখি তো, এত বিশেষ চকলেটের স্বাদ কেমন!"
কথা শেষ করেই সে এক টুকরো মুখে দিল।
কিন্তু পরের মুহূর্তেই তার মুখ কুঁচকে গেল।
— "উফ! এটা এত তেতো কেন?"
আহমেদ হেসে বলল,
— "এটা ডার্ক চকলেট। একটু তেতো তো হবেই।"
আরিয়ান আরেক টুকরো খেয়ে মাথা নেড়ে বলল,
— "না ভাই, এটা আমার দ্বারা হবে না। তুই খেয়ে দেখ।"
আহমেদ একটা চকলেট মুখে দিয়ে বলল,
— "কই? আমার তো ভালোই লাগছে।"
আরিয়ান সঙ্গে সঙ্গে হাসল।
— "তাহলে নিশ্চিত, এটা তোর জন্যই পাঠানো হয়েছে।"
আহমেদ কিছু বলল না।
সে শুধু চুপচাপ চকলেটের বাক্সটার দিকে তাকিয়ে রইল।
কিছুক্ষণ পর আবার শুটিং শুরু হলো।
আহমেদ ক্যামেরার পজিশন ঠিক করছিল।
আরিয়ানও শুটের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
হঠাৎ অসাবধানতাবশত আরিয়ান কারও সঙ্গে ধাক্কা খেল।
— "সরি, আমি খেয়াল করিনি..."
কথা বলতে বলতেই সে পেছন ফিরে তাকাল।
আর তাকিয়েই অবাক হয়ে বলল,
— "আরে! মিস Aurora?"
তার কথা শুনে স্টুডিওতে উপস্থিত সবাই একসাথে পেছন ফিরে তাকাল।
তাদের বসকে সেখানে দেখে সবার চেহারায় বিস্ময় ফুটে উঠল।
কারণ, Aurora খুব কমই শুটিং সেটে আসতেন।
আর এটাই ছিল প্রথমবার, যখন তিনি সরাসরি স্টুডিওতে এসেছেন।
সবাই কিছুটা নার্ভাস হয়ে গেল।
অন্যদিকে Aurora-র দৃষ্টি ছিল শুধুমাত্র একজনের উপর—
আহমেদ।
Aurora ধীরে ধীরে আহমেদের সামনে এসে দাঁড়াল।
পুরো স্টুডিও নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
আহমেদ অস্বস্তি নিয়ে বলল,
— "জি... বস?"
Aurora শান্ত কণ্ঠে বলল,
— "আমি তোমার জন্য চকলেট পাঠালাম।"
আহমেদ মাথা নেড়ে বলল,
— "জি। ধন্যবাদ।"
কিন্তু পরের কথাটাই সবাইকে অবাক করে দিল।
Aurora বলল,
— "আর তুমি সেটা অন্য কাউকে দিয়ে দিলে কেন?"
কথাটা শুনে পুরো স্টুডিওর সবাই বিস্ময়ে আহমেদের দিকে তাকাল।
আরিয়ানও অবাক হয়ে বলল,
— "এক মিনিট... চকলেটগুলো সত্যিই ওর জন্য ছিল?"
আহমেদ বিব্রত হয়ে বলল,
— "না মানে... আমি ভেবেছিলাম, এগুলো আরিয়ানের জন্য পাঠানো হয়েছে।"
Aurora কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর বলল,
— "পরের বার, কোনো কিছু না বুঝে অন্য কাউকে দেবে না।"
কথাটা বলেই সে ঘুরে চলে যেতে লাগল।
কিন্তু কয়েক কদম যাওয়ার পর আবার থেমে গেল।
পেছনে না তাকিয়েই বলল,
— "আর চকলেটগুলো শেষ করবে।"
এবার সত্যিই পুরো স্টুডিও স্তব্ধ হয়ে গেল।
কারণ, তাদের কঠোর এবং ভয়ংকর বস কারও জন্য চকলেট পাঠিয়েছেন—এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।
আর সবাই এখন একটাই প্রশ্ন ভাবছে—
আহমেদ আসলে কে?
কয়েকদিন বেশ ভালোভাবেই কেটে যাচ্ছিল।
আহমেদ ধীরে ধীরে অফিসের সবার সঙ্গে মিশে গিয়েছিল।
তার কাজের দক্ষতা দেখে অনেকেই মুগ্ধ ছিল।
বিশেষ করে, কোম্পানির প্রায় সব বড় ফটোশুটের দায়িত্ব এখন আহমেদের উপরই দেওয়া হচ্ছিল।
কিন্তু সবার এই প্রশংসা একজন মানুষ একদমই সহ্য করতে পারছিল না।
আর সে হলো—
নাহিদ।
একদিন সকালে অফিসে এসে সবাই শুনল, কোম্পানিতে নতুন একজন সিনিয়র ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর যোগ দিচ্ছে।
বিষয়টা নিয়ে সবাই বেশ উৎসাহী ছিল।
কিন্তু মানুষটিকে দেখার পর আহমেদের মুখ মুহূর্তেই ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
কারণ, সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি আর কেউ নয়—
নাহিদ।
নাহিদও আহমেদকে দেখে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল।
— "ওহ! তুমি এখানে?"
আহমেদ কোনো উত্তর দিল না।
সে শুধু নীরবে তার দিকে তাকিয়ে রইল।
পুরোনো সব স্মৃতি আবার তার সামনে ভেসে উঠল।
নাহিদের কারণেই তাকে তার আগের চাকরিটা ছাড়তে হয়েছিল।
সেই অফিসে নাহিদ ছোট ছোট মেয়েদের মডেলিংয়ের নামে অশ্লীল ফটোশুট করতে বাধ্য করত।
আহমেদ এর প্রতিবাদ করেছিল।
আর সেই প্রতিবাদের ফলেই তাকে চাকরি হারাতে হয়েছিল।
নাহিদ ধীরে ধীরে আহমেদের কাছে এসে নিচু স্বরে বলল,
— "দেখছি, ভাগ্য বেশ ভালো তোমার। কিন্তু মনে রেখো, এবারও আমি জিতব।"
কথাটা বলে সে চলে গেল।
আহমেদ গভীর শ্বাস ফেলল।
সে বুঝতে পারছিল, তার শান্ত দিনগুলো শেষ হতে চলেছে।
কিছুক্ষণ পর আমাতুল্লাহ আহমেদকে একপাশে ডেকে নিয়ে গেল।
সে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল,
— "ভাইয়া, তুই কি লোকটাকে চিনিস?"
আহমেদ কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বলল,
— "হ্যাঁ, চিনেছি।"
— "কে ও?"
আহমেদ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
— "তোকে একবার একজনের কথা বলেছিলাম না? আমার আগের অফিসে যে ছোট ছোট মেয়েদের ফটোশুটের নামে বাজে ছবি তুলতে বাধ্য করত?"
আমাতুল্লাহ বিস্ময়ে বলল,
— "মানে... এই লোকটা?"
আহমেদ মাথা নেড়ে বলল,
— "হ্যাঁ। আমি প্রতিবাদ করেছিলাম বলেই আমাকে চাকরি ছাড়তে হয়েছিল।"
কথাটা শুনে আমাতুল্লাহ রাগে ফুঁসতে লাগল।
— "তুই শুধু একবার বল, আমি এখনই বসকে গিয়ে সব বলে দিচ্ছি!"
আহমেদ দ্রুত মাথা নাড়ল।
— "না। এখন কিছু করার দরকার নেই। এটা পুরোনো ঘটনা। পরিস্থিতি বুঝে পরে দেখা যাবে।"
আমাতুল্লাহ অনিচ্ছাসত্ত্বেও চুপ হয়ে গেল।
কিন্তু তার মনে হচ্ছিল, নাহিদের আগমন তাদের জীবনে নতুন ঝড় নিয়ে এসেছে।
চলবে...