FF.
অধ্যায় ২: বন্ধ ঘরের রহস্য Book page

Chapter 2

অধ্যায় ২: বন্ধ ঘরের রহস্য

Nov 4, 2026 2 min read

দরজার ওপাশ থেকে আবারও সেই কণ্ঠ ভেসে এল।

"রায়হান... দরজা খোল। আমি তোর বাবা।"

রায়হান নিঃশ্বাস বন্ধ করে দরজার দিকে তাকিয়ে রইল। তার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেছে। মাথার ভেতর শুধু একটি প্রশ্ন ঘুরছে—যদি তার বাবা সত্যিই মারা গিয়ে থাকেন, তাহলে দরজার ওপাশে কে দাঁড়িয়ে আছে?

"তুমি কে?" কাঁপা গলায় প্রশ্ন করল সে।

কোনো উত্তর এল না।

কয়েক সেকেন্ড পর দরজার ওপাশ থেকে তিনবার টোকা পড়ল।

ঠক! ঠক! ঠক!

তারপর হঠাৎ সব নীরব।

রায়হান ধীরে ধীরে ফোনের দিকে তাকাল। কলটি কেটে গেছে। কিন্তু ফোনের স্ক্রিনে একটি নতুন মেসেজ জ্বলজ্বল করছে।

"নিচতলার ঘরে যাও। সত্যিটা জানতে হলে পুরোনো ডায়েরিটা খুঁজে বের কর।"

মেসেজটি এসেছে তার নিজের নম্বর থেকে!

রায়হান বুঝতে পারল না, তার ফোন থেকেই সে নিজেকে মেসেজ পাঠাল কীভাবে।

সাহস জোগাড় করে সে ঘরের দরজা খুলল।

বাইরে কেউ নেই।

কিন্তু মেঝেতে পড়ে আছে একটি ভেজা পায়ের ছাপ। ছাপগুলো সিঁড়ির দিকে চলে গেছে।

সে ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে লাগল।

নিচতলার বন্ধ ঘরটির সামনে এসে দাঁড়াতেই তার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। দরজায় বড় একটি পুরোনো তালা ঝুলছে। অথচ তালার নিচে মেঝেতে পড়ে আছে একটি নতুন চাবি।

রায়হান চাবিটি তুলে তালায় ঢোকাল।

ক্লিক!

দরজা খুলে গেল।

ঘরের ভেতরে ধুলোমাখা আসবাবপত্র, ছেঁড়া পর্দা আর দেয়ালে ঝুলে থাকা একটি পুরোনো ছবি।

ছবিতে তার বাবা, মা এবং ছোট্ট রায়হান দাঁড়িয়ে আছে।

কিন্তু ছবিটির পেছনে আরও একজন মানুষ ছিল।

কালো পোশাক পরা এক অচেনা লোক।

রায়হান ছবিটি হাতে নিয়ে ভালো করে দেখল। লোকটির মুখে লাল কালির দাগ দেওয়া।

ছবির পেছনে লেখা ছিল—

"যে মানুষটিকে তুমি সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করো, সে-ই তোমার সবচেয়ে বড় শত্রু।"

হঠাৎ ঘরের কোণে রাখা কাঠের আলমারির ভেতর থেকে শব্দ এল।

খট... খট... খট...

রায়হান ধীরে ধীরে আলমারির কাছে এগিয়ে গেল।

আলমারির দরজা খুলতেই ভেতরে একটি পুরোনো ডায়েরি পাওয়া গেল।

ডায়েরির প্রথম পাতায় তার বাবার হাতের লেখা।

"যদি কখনো রায়হান এই ডায়েরি খুঁজে পায়, তাহলে তাকে জানিয়ে দিও—তার জন্মের রাতেই এই বাড়িতে এমন কিছু ঘটেছিল, যার জন্য আজও আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারিনি।"

রায়হানের চোখ বড় হয়ে গেল।

সে পরের পাতাটি উল্টাতেই একটি ছবি মেঝেতে পড়ে গেল।

ছবিতে তার বাবা দাঁড়িয়ে আছেন হাসপাতালের সামনে। পাশে একটি নবজাতক শিশু।

ছবির নিচে লেখা—

"রায়হান আমাদের আসল সন্তান নয়।"

ঠিক তখনই তার পেছন থেকে একটি মেয়ের কণ্ঠ শোনা গেল।

"অবশেষে তুমি সত্যিটা জেনে গেলে!"

রায়হান ঘুরে দাঁড়াল।

দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে একটি অচেনা মেয়ে।

তার হাতে একটি রক্তমাখা ছুরি।

মেয়েটি মুচকি হেসে বলল—

"এবার তোমাকে মরতে হবে, রায়হান। কারণ তোমার বাবা যে রহস্য লুকিয়ে রেখেছিলেন, সেটা জানার অধিকার তোমার নেই।"

চলবে...

Picked up where you left off

Conversation

(0)

Log in to join the conversation.

No comments on this chapter yet.