FF.
অধ্যায় ৩: ১৭ বছর আগের ছবি Book page

Chapter 3

অধ্যায় ৩: ১৭ বছর আগের ছবি

Nov 4, 2026 2 min read

মেয়েটির হাতে রক্তমাখা ছুরিটি দেখে রায়হান কয়েক পা পিছিয়ে গেল।

"তুমি কে? আমার কাছ থেকে কী চাও?"

মেয়েটি কোনো উত্তর দিল না। শুধু তার হাতে থাকা ডায়েরিটির দিকে তাকিয়ে বলল,

"ওটা তোমার হাতে থাকা উচিত নয়।"

রায়হান ডায়েরিটি বুকের কাছে চেপে ধরল।

"এই ডায়েরিতে কী আছে? আমার বাবা কী লুকিয়ে রেখেছিলেন?"

মেয়েটি ধীরে ধীরে এগিয়ে এল।

"তোমার জন্মের সত্য। আর সেই সত্য জানলে তুমি আর কখনো আগের মতো থাকতে পারবে না।"

"আমি জানতে চাই!"

মেয়েটি কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইল। তারপর বলল,

"তোমার বাবা তোমাকে নিজের সন্তান বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৭ বছর আগে হাসপাতালের সেই রাতে অন্য একটি শিশুর জন্ম হয়েছিল।"

রায়হান হতভম্ব হয়ে গেল।

"তাহলে আমি কার সন্তান?"

মেয়েটি উত্তর দেওয়ার আগেই বাড়ির সব আলো নিভে গেল।

অন্ধকারের মধ্যে হঠাৎ একটি ফোন বেজে উঠল।

রায়হান পকেট থেকে ফোন বের করল। স্ক্রিনে আবার সেই অজানা নম্বর।

সে কল রিসিভ করতেই বাবার কণ্ঠ শোনা গেল।

"রায়হান, মেয়েটিকে বিশ্বাস করিস না।"

রায়হান চমকে মেয়েটির দিকে তাকাল।

কিন্তু মেয়েটি সেখানে নেই।

শুধু মেঝেতে পড়ে আছে রক্তমাখা ছুরিটি।

ফোনের ওপাশ থেকে বাবা আবার বললেন,

"তোর সামনে যে সত্য আছে, সেটা পুরো সত্য নয়।"

"বাবা, আপনি কোথায়? আপনি বেঁচে আছেন?"

কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।

তারপর উত্তর এল,

"আমি তোর খুব কাছেই আছি।"

কলটি কেটে গেল।

রায়হান ডায়েরির পরের পাতাগুলো দ্রুত উল্টাতে লাগল। একটি পাতায় হাসপাতালের নাম এবং তারিখ লেখা ছিল।

১৭ বছর আগের সেই রাত।

পাতার নিচে একটি নাম—

ডা. সামিউল হক।

তার পাশে লাল কালিতে লেখা—

"এই মানুষটিই জানে, আসল শিশুটি কোথায়।"

রায়হান সঙ্গে সঙ্গে নামটি ইন্টারনেটে খুঁজল। জানতে পারল, ডাক্তার সামিউল হক পাঁচ বছর আগে নিখোঁজ হয়েছেন।

কিন্তু সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় ছিল অন্য কিছু।

ডাক্তারের পুরোনো ছবিটি দেখে রায়হানের হাত কেঁপে উঠল।

ছবির পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি সেই একই ব্যক্তি, যাকে সে তার বাবার পুরোনো পারিবারিক ছবিতে দেখেছিল।

হঠাৎ ডায়েরির ভেতর থেকে একটি ছোট কাগজ মেঝেতে পড়ে গেল।

সেখানে লেখা—

"যদি রায়হান সত্য জানতে চায়, তাহলে তাকে নিয়ে এসো সেই হাসপাতালে। রাত ৩টা ১৭ মিনিটে।"

রায়হান ঘড়ির দিকে তাকাল।

সময় ৩টা ১৬ মিনিট।

আর ঠিক তখনই তার ঘরের বাইরে থেকে একটি শিশুর কান্নার শব্দ ভেসে এল।

"মা... আমাকে আমার আসল মায়ের কাছে নিয়ে চলো..."

রায়হান দরজার দিকে তাকিয়ে রইল।

কারণ সেই কণ্ঠটি ছিল তার নিজের শৈশবের কণ্ঠ।

চলবে...

Picked up where you left off

Conversation

(0)

Log in to join the conversation.

No comments on this chapter yet.