রায়হান বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করল। প্রথমে সে বুঝতে পারল, কাদেরের ঘটনা একা নয়। গত সাত বছরে শালবন ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ত্রিশটি জমি একই ধরনের পদ্ধতিতে মালিকানা বদলেছে।
অদ্ভুত বিষয়—প্রতিটি জমির প্রকৃত মালিক ছিল সাধারণ মানুষ।
কেউ কৃষক।
কেউ বিধবা।
কেউ প্রবাসী।
কেউ শহরে কাজ করা শ্রমিক।
আর তাদের অধিকাংশই জমি হারানোর পর মামলা করেছিল।
তারপর কোনো না কোনোভাবে মামলা বন্ধ হয়ে যায়।
কেউ টাকা নিয়ে চুপ হয়ে যায়।
কেউ শহর ছেড়ে চলে যায়।
আর কয়েকজন নিখোঁজ।
রায়হান একটি তালিকা তৈরি করল।
তালিকার প্রথম নাম—
মোতালেব হোসেন।
দ্বিতীয়—
রহিমা বেগম।
তৃতীয়—
হাবিবুর রহমান।
চতুর্থ—
সালেহা খাতুন।
পঞ্চম—
জহির উদ্দিন।
সবশেষে কাদেরের নাম লিখল।
তারপর হঠাৎ রায়হানের চোখ আটকে গেল।
নামগুলোর পাশে জমির দাগ নম্বর ছিল।
সবগুলো দাগ নম্বর একটি নির্দিষ্ট এলাকার আশপাশে।
রায়হান মানচিত্র বের করল।
সব জমি যেন একটি অদৃশ্য রেখা অনুসরণ করছে।
রেখাটি গিয়ে শেষ হয়েছে শালবনের পুরোনো নদীর ধারে।
সেখানে বহু বছর ধরে পড়ে আছে একটি পরিত্যক্ত ইটভাটা।