FF.
পর্ব ৩০ মাটি কার? Book page

Chapter 30

পর্ব ৩০ মাটি কার?

Oct 7, 2026 2 min read

এক বছর পর শালবনের চেহারা বদলে গেল।

অনেক পরিবার তাদের জমি ফিরে পেল।

নতুন করে ভূমি রেকর্ড যাচাই শুরু হলো।

দলিল জালিয়াতির বিরুদ্ধে বিশেষ তদন্ত শুরু হলো।

দেবাশীষ রায় ধরা পড়েছিল সীমান্তের কাছ থেকে।

তার সঙ্গে আরও অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছিল।

কিন্তু তার জিজ্ঞাসাবাদে একটি কথাই বারবার ফিরে আসে—

“আমি শুধু একজন কর্মচারী।”

“কার?”

দেবাশীষ কোনো উত্তর দেয়নি।

রায়হান শেষবার তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে দেবাশীষ একটি কাগজ এগিয়ে দেয়।

“তুমি ভেবেছ গল্প শেষ?”

রায়হান কাগজটি নিল।

সেখানে শালবনের একটি মানচিত্র।

কিন্তু মানচিত্রের বাইরে আরও বড় একটি এলাকা কালো দাগে চিহ্নিত।

দেবাশীষ বলল—

“শালবন ছিল পরীক্ষামূলক এলাকা।”

রায়হান স্তব্ধ হয়ে গেল।

“পরীক্ষা?”

“হ্যাঁ। মানুষ কত সহজে নিজের জমি হারায়, সেটার পরীক্ষা।”

“আর পরের এলাকা?”

দেবাশীষ হাসল।

“সেটা তোমরা নিজেরাই জানবে।”

কারাগার থেকে বেরিয়ে রায়হান নদীর ধারে দাঁড়াল।

সূর্য অস্ত যাচ্ছে।

কাদের তার পাশে এসে দাঁড়াল।

কাদের বলল—

“দাদার কথা মনে পড়ে।”

রায়হান বলল—

“কী বলেছিলেন?”

কাদের মাটির দিকে তাকিয়ে বলল—

“এই মাটি কখনো কারও নয়। আমরা শুধু কিছুদিন এর ওপর দাঁড়িয়ে থাকি।”

রায়হান মুঠো ভরে মাটি তুলে নিল।

তারপর দূরের নদীর দিকে তাকাল।

শালবনের মানুষ তাদের জমি ফিরে পেয়েছে।

কিন্তু কালো বৃত্তের রহস্য পুরোপুরি শেষ হয়নি।

কারণ সেই রাতে রায়হানের ফোনে একটি অচেনা নম্বর থেকে মাত্র একটি বার্তা এসেছিল—

“শালবন শেষ। এবার শুরু হবে অন্য শহর।”

রায়হান বার্তাটি মুছে ফেলল না।

সে জানত, যুদ্ধ শেষ হয়নি।

কারণ—

মাটি খেকো কোনো একজন মানুষ নয়।

মাটি খেকো হলো সেই লোভ, যে মানুষের অধিকারকে কাগজে মুছে দিয়ে মাটিকে নিজের সম্পত্তি বানাতে চায়।

আর যতদিন কোনো মানুষের জমির দলিল অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া হবে, যতদিন ক্ষমতা দুর্বল মানুষের অধিকারের ওপর দাঁড়াবে, ততদিন কোথাও না কোথাও জন্ম নেবে নতুন এক—

মাটি খেকো।

 

Picked up where you left off

Conversation

(0)

Log in to join the conversation.

No comments on this chapter yet.